Similar ebooks

এর পুরো নাম ‘আলবারাহীনুল আহমদীয়াহ্‌ আলা হাক্কীয়্যতে কিতাবিল্লাহীল কুরআনে ওয়ান্‌ নবুয়্যাতীল মুহাম্মদীয়াহ্‌’ অর্থাৎ,  

‘মহান আল্লাহ্‌র পবিত্র বাণী আল-কুরআন ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)- এর সত্যতার সপক্ষে উৎকৃষ্ট প্রমাণাদি ও অকাট্য যুক্তি’

‘বারাহীনে আহমদীয়া’ গ্রন্থটির ১ম ও ২য় খণ্ড ১৮৮০ খ্রিষ্টাব্দে প্রথম বার প্রকাশ করা হয়।

গ্রন্থের শুরুতেই মির্যা গোলাম আহমদ (আ.) অস্বীকারকারী বিরোধীদের সামনে ইসলামের সত্যতা প্রতিপন্ন করে ১০ হাজার রুপি (পুরস্কার) প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

তিনি (আ.) বলেন, “হে ইসলামের অস্বীকারকারীগণ! যদি এখনও কুরআনের সত্যতা সম্পর্কে আপনাদের কোন আপত্তি থাকে বা এর শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে যদি কোনরূপ দ্বিধা থাকে তাহলে আপনাদের স্ব স্ব ধর্মগ্রন্থ হতে যুক্তির ভিত্তিতে এর উত্তর প্রদান করা আপনাদের জন্য আবশ্যক। নতুবা আপনারা জানেন আর সকল ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিও জানে, যে গ্রন্থের সত্যতা ও শ্রেষ্ঠত্ব শত শত যুক্তির মানদণ্ডে প্রমাণিত, এর প্রতিষ্ঠিত এসব প্রমাণাদি খণ্ডন না করে আর পরাকাষ্ঠায় এর সমমর্যাদার গ্রন্থ উপস্থাপন করা, এমন একটি অন্যায় কাজ যা লজ্জাবোধ ও পবিত্র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের সম্পূর্ণভাবে পরিপন্থী।”



বারাহীনে আহমদীয়া গ্রন্থে তিনি (আ.) মুহাম্মদ (সা.) এর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, “এখন আকাশের নীচে কেবল একজনই নবী এবং একটিই ঐশী গ্রন্থ বিদ্যমান অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম), যিনি সকল নবীর চেয়ে বেশী মর্যাদাশীল ও শ্রেষ্ঠ, আর সব রসূলের চেয়ে অধিক সম্পূর্ণ । যিনি হলেন, খাতামুন নবীঈন ও মানবশ্রেষ্ঠ। যাঁর অনুসরণে খোদাপ্রাপ্তি ঘটে আর আঁধাররাজি দূরীভূত হয় আর এই জগতেই সত্যিকার নাজাত লাভের লক্ষণাবলী প্রকাশিত হয়। আর কুরআন শরীফ হলো, খাঁটি ও পরিপূর্ণ পথ-নির্দেশনা ও পবিত্রকরণ প্রভাবে ভরপুর, যার মাধ্যমে সত্যিকারের জ্ঞান ও তত্ত্ব লাভ হয় এবং মানবীয় দুর্বলতা থেকে মন পবিত্র হয় এবং মানুষ অজ্ঞতা, ঔদাসীন্য, সন্দেহের বাতাবরণ থেকে নিষ্কৃতি লাভ করে হাক্কুল ইয়াকীন (বা দৃঢ় বিশ্বাস)-এর পর্যায়ে উপনীত হয়।



এ পুস্তক রচনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে হযরত ইমাম মাহদী (আ.) বলেন, ‘সকল সত্যান্বেষীর যেন স্মরণ থাকে যে, ‘আলবারাহীনুল আহমদীয়াহ্‌ আলা হাক্কীয়্যতে কিতাবিল্লাহীল কুরআনে ওয়ান্‌ নবুয়্যাতীল মুহাম্মদীয়াহ্‌’ নামক গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্য হলো ইসলাম ধর্মের সত্যতা প্রমাণ, কুরআন করীমের সত্যতার অনুকূলে যুক্তি প্রদান এবং হযরত খাতামুল আম্বিয়া (সা.)-এর রিসালতের সত্যতার প্রমাণ সবার সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন। এছাড়া, যুক্তি প্রমাণে দৃঢ় এই ধর্ম, এই পবিত্র গ্রন্থ এবং এই মনোনীত নবীকে যারা অস্বীকার করে, তাদেরকে উৎকৃষ্ট ও যুক্তিনির্ভর প্রমাণাদির মাধ্যমে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো ও নির্বাক করে দেয়া, যেন ভবিষ্যতে তারা ইসলামের বিরুদ্ধে মুখ খোলার ধৃষ্টতা না দেখায়।’



বারাহীনে আহমদীয়া’র মোট পাঁচটি খণ্ড রয়েছে। ২৩ খন্ডে প্রকাশিত রূহানী খাযায়েন-এর প্রথম খণ্ডে রয়েছে বারাহীনে আহমদীয়ার প্রথম চার খণ্ড আর পঞ্চম খণ্ডটি রয়েছে একুশতম খণ্ডে।



বহুল প্রতিক্ষিত এ পুস্তক, যা প্রতিশ্রুত মসীহ্‌ ও ইমাম মাহদী হযরত মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (আ.) তাঁর দাবির পূর্বেই রচনা করেছিলেন এবং যেই পুস্তক সম্পর্কে সেই যুগের ভারতবর্ষে বহু মানুষ স্বতঃস্ফুর্ত এ সাক্ষ্য এমন অসাধারণ সেবা প্রদান কারো পক্ষে সম্ভব হয় নি, যা এ পুস্তকের মহান লেখক করে দেখিয়েছেন।
©2020 GoogleSite Terms of ServicePrivacyDevelopersArtistsAbout Google|Location: United StatesLanguage: English (United States)
By purchasing this item, you are transacting with Google Payments and agreeing to the Google Payments Terms of Service and Privacy Notice.