-সমস্ত কিছু যার মধ্যে দিয়ে বা যার দ্বারা সৃষ্টি হয় তাহাই প্রকৃতি |
ভারতীয় দর্শনশাস্ত্র অনুযায়ী প্রকৃতি এবং প্রকৃতিতে বসবাসকারী সকল প্রাণীই এই পঞ্চভূতে নির্মিত। ক্ষিতি (কঠিন পদার্থ), অপ (তরল পদার্থ), তেজ (শক্তি), মরুৎ (বায়বীয় পদার্থ) ও ব্যোম (ভর ও শক্তির আন্ত-পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ও তাদের উৎসস্থল) এই পাঁচটি উপাদান নিয়ে পঞ্চভূত।
প্রকৃতির সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাণী মানবদেহেও এর প্রভাব বর্তমান। রোজকার আটপৌরে জীবনযাত্রা, পারিবারিক সুখদুঃখ, স্নেহ-ভালোবাসার মধ্যেই লুকিয়ে আছে পঞ্চভূত। আর নিস্তরঙ্গ রোজনামচার মধ্যে যদি কখনো ঘটে অলৌলিক কিছু, তখন মানবচরিত্র কিভাবে তার মোকাবিলা করে, সে প্রশ্নেরই উত্তর খোঁজার চেষ্টা রয়েছে এই পাঁচটি গল্পে। গল্পগুলো প্রত্যেকটি স্বয়ংসম্পূর্ণ তবে একে অপরের সাথে অঙ্গাঙ্গিকভাবে যুক্ত।
কতটা সফল হয়েছি তার উত্তর আমার কাছে নেই। রয়েছে আপনাদের, মহামহিম পাঠকদের কাছে। তাই এই ‘পঞ্চভূত’ আপনাদের উদ্দেশ্যেই নিবেদন করলাম।
আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা নয় একটুকুও। বই’কে সঙ্গী করে জীবন কাটিয়ে দেওয়াই তার কাছে সার্থকতার সংজ্ঞা। কাজ বলতে ডাক্তারি আর অকাজ বলতে ছবি আঁকা এবং নিরিবিলি জায়গায় ঘুরতে যাওয়া। ও আর একটা আছে। পথে-ঘাটে, চেনা-অচেনা জায়গায় জিভে-জল-আনা খাবারের সাক্ষাৎ পেলেই দু-দন্ড দাঁড়িয়ে পড়া। মন ও উদর দিয়ে রসস্বাদন না করে ঐ জায়গা ছেড়ে সে যায় না। শুধু তাই নয় পরিচিত মানুষজনকে জনে জনে ডেকে সে কথা বলতেও ভারি উৎসাহ তার।