Complete Works of Aniruddha Bose Volume 1(Bengali)

Smriti Publishers
Free sample

এই খণ্ডটিতে প্রকাশিত চারটি উপন্যাস –দেখা, তোমাকে..., ক্যানভাসে ও স্ফুলিঙ্গ। প্রত্যেকটাই ভিন্ন স্বাদের। বারবার নিজেকে ভাঙার মধ্যেই তার নতুনত্বের প্রকাশ। প্র্যাকটিসের বাইরে সেখানেই তার শান্তি। তার প্রতিটা উপন্যাস মৌলিক চিন্তা ধারার ফসল। অনেক ক্ষেত্রে সাবেকিয়ানা ভেঙে বেরবার প্রয়াস। বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সত্য কে নতুন করে খুঁজে চিনতে। তাকে লেখনীর মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে।
Read more
Collapse

About the author

পেশায় প্লাস্টিক সার্জেন, নেশায় লেখক অনিরুদ্ধ বসুর জন্ম ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৫৫ কলকাতায়। বিই কলেজের স্নাতক ইঞ্জিনিয়ার বাবা স্বর্গীয় বিনয়েন্দ্রমোহন বসু ও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রৌপ্যপদক প্রাপ্ত বাংলার স্নতাকোত্তর মা স্বর্গীয় ইলা বসুর-র উৎসাহে ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি অনুরাগ। সেন্টজেভিয়ার্স স্কুল ও মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাশ। পরে ইউনাইটেড কিংডমেররয়্যাল কলেজ অফ সার্জেনস থেকে এফ আর সি এস। ইংল্যান্ডে বহু বছর কাটিয়েছে। দু-বছর মধ্যপ্রাচ্যে ও। এখন কলকাতার প্রখ্যাত প্লাস্টিক সার্জেন। দেশে ও বিদেশে অন্যতমদের মধ্যে একজন।

ছোটবেলা থেকেই লেখায় আসক্তি।স্কুল পত্রিকা ‘নিহিলউল্ট্রার’ সম্পাদক পদের দায়িত্বে থাকাকালীন নিয়মিত সাহিত্যচর্চা। বহুপত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি। পরে ইংল্যান্ড ও কুয়েতে সাহিত্য সংস্কৃতির সঙ্গে যোগাযোগ।

নিয়তি কেন বাধ্যতে। অনেক সময় নিয়তি বিভিন্ন আঙ্গিকে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ব্যস্ততার মধ্যে ২০০৬ শালে পায়ের হাড় ভেঙেছ’ মাস হুইল চেয়ারে থাকাকালীন সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় পুনরায় লেখালেখি শুরু। সেই সময় ‘অন্বেষণ’ উপন্যাস রচনা। যা প্রকাশিত হয় ২৫ আগস্ট ২০০৭-এ। নতুন আঙ্গিকের এই উপন্যাস সাড়া ফেলে দেয় সংস্কৃতি মহলে। বেস্ট সেলার শুধুই হয়নি,ব্যস্তপ্র্যাকটিসের মধ্যেও লেখায় অনুপ্রেরণা জোগায়। দ্বিতীয় উপন্যাস‘নিঃশব্দে’ওবেস্টসেলারের খাতায় নাম লেখায়। শুধু তাই নয়,লন্ডন বুক ফেয়ার ও জাতীয় মাধ্যমে বিশেষ ভাবে সমাদৃত হয়। তারপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ভবিতব্য নতুন সৃষ্টির দিক খুলে দিগন্তে নতুন দিশার আলো দেখায়। বহুদেশ থেকে সংগৃহীত মানুষ,সমাজ,উপলব্ধি বন্দি হয় তার লেখনীর বিভিন্ন আঙ্গিকে। ব্যস্ততার মধ্যেও সময় খুঁজে নেয় নতুন চেতনার রচনা শৈলীতে। খুনের গল্পের বিবর্তন থেকে বৈজ্ঞানিক দর্শন তার লেখাকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যায়।

Read more
Collapse
Loading...

Additional Information

Publisher
Smriti Publishers
Read more
Collapse
Published on
Sep 16, 2019
Read more
Collapse
Pages
722
Read more
Collapse
Read more
Collapse
Read more
Collapse
Language
Bangla
Read more
Collapse
Genres
Fiction / General
Read more
Collapse
Content Protection
This content is DRM protected.
Read more
Collapse
Read Aloud
Available on Android devices
Read more
Collapse

Reading information

Smartphones and Tablets

Install the Google Play Books app for Android and iPad/iPhone. It syncs automatically with your account and allows you to read online or offline wherever you are.

Laptops and Computers

You can read books purchased on Google Play using your computer's web browser.

eReaders and other devices

To read on e-ink devices like the Sony eReader or Barnes & Noble Nook, you'll need to download a file and transfer it to your device. Please follow the detailed Help center instructions to transfer the files to supported eReaders.
সীমা আর অসীম...

না, নায়ক নায়িকার নাম নয়। কবিতাও নয়, নিতান্তই কঠোর গদ্য।

সীমা কী? কীসের সীমা? জানার? না অজানার? না কি অন্য কিছুর? মানবমনের? না কি মানব-চেতনার? অসীমই বা কী? কবি বলেন এক, আর গণিতজ্ঞ বলেন আরেক। আর মাঝখানের যে সাধারণ মানুষ, তারা এসব নিয়ে মাথা ঘামায় না। তাদের কাছে সীমা হচ্ছে জানার সীমা। অসীম হচ্ছে জানার সীমানার বাইরের একটা রহস্যময় কিছু। চেতনার বাইরের একটা অবচেতন বা অতিচেতন স্তর।

সাধারণ পাঠক এতেই বিরক্ত হয়ে হাই তুলবেন। সীমা-অসীম, চেতন-অবচেতন-অতিচেতন এসব ইন্টেলেকচুয়াল তত্ত্বের কচকচানি শুনে কী লাভ? কিন্তু কেউ কেউ হয়ত স্রোতের বাইরে। মধ্যমেধার রাজত্বের বিবর্ণ ধুসর প্রান্তরের মধ্যে দিয়ে একাকি হেটে চলা এই বিরল দুঃসাহসী অভিযাত্রীরা ভাবেন এই সব নিয়ে। তাঁদের অনুসন্ধিৎসু চেতনার অস্পষ্ট ধ্যানালোকে ডাক আসে এক আশ্চর্য স্পন্দনে নিরন্তর স্পন্দিত হওয়া অতিচেতনের, শুষুম্না ঈড়া পিঙ্গলার দ্বার বেয়ে বয়ে চলা এক অবচেতন থেকে অতিচেতনে উত্তরনের আহ্বানের। জাগতিক দিকচক্রবালের নিঃঝুম আকাশগঙ্গায় স্নান করে ওঠা অস্পষ্ট মুক্ত আত্মার বিমূর্ত বর্ণহীন অবয়ব ভেসে যায় অসীমের দিকে। যাঁরা এই আহ্বানের মূক ভাষা বুঝতে পারেন, তাঁরাই সীমা আর অসীমের চিরন্তন দ্বন্দ্বের পরপারে চলে যাওয়ার পথটির সন্ধান পান। সন্ধান পান সীমা-অসীম ছাড়িয়ে সেই যে পরম অজ্ঞেয় ক্ষেত্র, সেই তূরীয়লোকের, আজ্ঞাচক্রের পথ ধরে সহস্রারের সেই পরমচেতনার অন্তিম আশ্রয়ে।

কিন্তু সেই ডাক শোনে কয় জনা? শুনতে পেলেও বোঝে ক’জন? বুঝলেও চেনাজানা সীমার নিরাপত্তার বাইরে পা বাড়াবার সাহস খুঁজে পায় ক’জন?

তবে কেউ কী পায় না?

না পায়। কেউ কেউ পায়। তারা বিরল। তারা ব্যতিক্রমী। তারা প্রায় সব সময়েই সমসাময়িকদের মাঝে একটা রহস্যময় চরিত্র, একটা এনিগমা। বা, পাগল!

এই রকম একটি চরিত্র অনিরুদ্ধ বসুর সাহসী সৃষ্টি ‘আলো আঁধার’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্রটি। সে একটি মেয়ে। নাম? নামে কিছু যায় আসে কী? শ্যামা রমা বিশাখা দেবী বনলতা – নাম যাই হোক না কেন, সেটা এখানে গুরুত্বপূর্ণ নয় যেখানে মানবিক সঙ্কট প্রবল সেখানেই অস্তিত্বচিহ্ন গুরুত্বহীন। যা গুরুত্বপূর্ণ, তা হল তার চরিত্র। অতি সাধারণ চেনা জানা মেয়েটি জীবনের ঘটনাবহুল স্রোতে ভাসতে ভাসতে আর হাজারটা চরিত্রের মতো গড্ডালিকা প্রবাহে হারিয়ে গেল না, ভাগ্যের এক আশ্চর্য খেলায় সে হঠাৎই খুঁজে পেল জীবনের রহস্য সন্ধানের চাবিকাঠি। আলো আর আঁধারের চোখ ধাঁধানো খেলার মধ্য দিয়ে, হাজারটা চরিত্রের কাম ক্রোধ লোভ মোহ মদ মাৎসর্যের বেড়াজাল ভেঙে, নিজের সীমা পেরিয়ে সে পাড়ি দিল অসীমের খোঁজে। না কি তারও ওপারে? একদিন যে জ্ঞানের বিদ্যুতাগ্নি তার চেতনাকে শিখিয়েছিল ‘প্রজ্ঞানং ব্রহ্ম’, যে জ্ঞানজ্যোতিঃ একদিন তার কাছে উদাত্ত কণ্ঠে গেয়েছিল তার অবচেতনের ঘুমভাঙানিয়া সঙ্গীত ‘অয়মাত্মানং ব্রহ্ম’, একদিন সেই জ্ঞানের আলোই তাকে বুঝতে শেখাল সীমা আর অসীমের আপাত বিভেদের অন্তস্থলে লুকিয়ে থাকা অভেধ সত্য ‘তৎত্বম অসি’। সেই জ্ঞানই অবশেষে তাকে নিয়ে গেল সীমা-অসীমের ওপারে এক একমেবাদ্বিতীম সত্যে – ‘অহম ব্রহ্মাস্মি’-র অতিচেতনে।

বইটির পাণ্ডুলিপি শেষ করার পর অনিরুদ্ধ বসুর এই অসাধারণ সৃষ্টিকে কী বলে সাধুবাদ জানাব ভেবে পাচ্ছিলাম না। বহুমাত্রিক এই উপন্যাসটি হয়ত সবাই একই দৃষ্টিতে দেখবেন না। সেটা সম্ভবও নয়, কাম্যও নয়। শুধু এই আশা করব, এই অপূর্ব কাহিনিটি কিছু সেরিব্রাল পাঠককে ভাবনার খোরাক যোগাক।

এমন একটি গণ্ডিভাঙা ব্যতিক্রমী উপন্যাস উপহার দেওয়ার জন্য লেখকের কাছে বাংলা উপন্যাস-সাহিত্য ঋণী থাকবে, যদিও এ আমার নিজস্ব অনুভূতি।

ধন্যবাদান্তে

আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়

 

 অনিরুদ্ধ বসুর নতুন উপন্যাসটির ভূমিকা লেখার আগে পাণ্ডুলিপিটি পড়ে শেষ করলাম। বইটা পড়ার সময় এবং পড়ার পরে এক অদ্ভুত অনুভূতি হলো। এক কথায় অনুভূতিটা বোঝানো যাবে না। বিরক্তি, রাগ, দুঃখ, হতাশা এবং আশা, সব কিছু আবেগের আঁচে আর যুক্তির ছুরিতে তালগোল পাকিয়ে গলার কাছে একটা অব্যক্ত কান্নার দলা হয়ে আটকে গেল।
সত্যি কথাগুলো চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে রীতিমতো সাহস লাগে। সর্বক্ষেত্রে বাঙালির পিছিয়ে যাওয়াটা দুঃখের, কিন্তু ভয়ের নয়। সাময়িক পিছিয়ে পড়াটা জাগতিক নিয়মের মধ্যেই পড়ে। পিছিয়ে পড়লেও আবার এগোনো যায়, যদি ...

এই যদিটাই এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন। এই যদিটা যখন মানসিক ক্লীবত্বে পরিণত হয়, তখনই হয় ভয়। বাংলা এবং বাঙালির ভবিষ্যতের জন্য ভয়। মানসিক জড়তা জন্ম দেয় এক আশ্চর্য উন্নাসিক কূপমণ্ডুকত্ব। তার প্রধান লক্ষণ অতীতকে আঁকড়ে ধরে ভবিষ্যতকে অস্বীকার করা। ‘এই বেশ ভালো আছি’ মানসিকতা যখন মিশে যায় ‘ওল্ড ইজ গোল্ড’ আর ‘আমি বা আমরাই শ্রেষ্ঠ’ মনোভাবের সঙ্গে, তখনই ঘটে একটি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ বা জাতির অবক্ষয়। তখন কেউ এদিকে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলে তাকে প্রথমে উপেক্ষা, তারপর বিদ্রুপ এবং তারপর ছোট করার চেষ্টা করা হয়।

অনিরুদ্ধ বসু তার নতুন উপন্যাস ‘স্ফুলিঙ্গ’-তে এই কঠিন অপ্রিয় কাজটি করার চেষ্টা করেছে। কলা বা কৃষ্টি ক্ষেত্রে বাংলা ও বাঙালি যে ক্রমাগত পিছিয়েই যাচ্ছে, মধ্যমেধার রাজত্বে যে নতুন প্রতিভাকে অঙ্কুরেই বিনাশ করে দেওয়ার একটা ঘোর চক্রান্ত চলছে, অনিরুদ্ধ বসুর সাহসী কলমে তা উঠে এসেছে।

কিন্তু অনিরুদ্ধ বসু শুধু কালো রঙটাই দেখায়নি। ঘোর অন্ধকারাচ্ছন্ন শ্মশানভূমি থেকে আলোর পাখি ফিনিক্সের উঠে আসার মতো তার উপন্যাসের প্রটাগনিস্টের লড়াই করে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করার গল্পও শুনিয়েছে।

আজ অনিরুদ্ধ বসুর উপন্যাসটির ভূমিকা লিখতে বসে একটাই কামনা করছি, এই কাল্পনিক ‘স্ফূলিঙ্গ’ সত্যের দাবানলে পরিণত হয়ে বাংলার কৃষ্টিজগতের পূঞ্জীভূত জঞ্জালে খাণ্ডবদহনের সৃষ্টি করুক, যাতে সেই পোড়ামাটির গর্ভ থেকে ফিনিক্সের মতো নতুন প্রজন্মের প্রতিভাশালী অঙ্কুরগুলি জন্মায় এবং কালক্রমে মহীরূহে পরিণত হয়।
ভিবজিওর শব্দটার অর্থ আমাদের সবারই জানা। সূর্যের সাদা আলোর বর্ণালির সাত রং-এর ইংরেজি আদ্যক্ষরগুলিকে পরপর সাজালে এই শব্দটি পাওয়া যায়। তার মানে সাদা রং ভেঙে এই সাতটি রং মেলে। বিপরীত ভাবে দেখলে, সাতটি বিভিন্ন রং মিলে তৈরি হয় সাদা রং। 
পিওর ম্যাজিক! 
আবার এই দৃশ্যমান রং-এর জগতের ওপারে আছে এক রংহীন জগৎ, অতি বেগুনি আর লাল উজানি আলোর এক ভিন্ন রাজ্য। সেখানে পৌঁছতে পারলে কোথায় রং? মানুষের চোখ সেখানে হয়ে পড়ে অকেজো। অনুভূতির অন্য স্তরে সেখানে বিরাজমান অন্য ইন্দ্রিয়ের অনন্য অনুভূতি। 
মানুষও ঠিক এ রকম নয় কি? প্রতিটি মানুষের চরিত্রই তো কত রকম রং-এর, সাত বা সাতাত্তর, কেউ কি খেয়াল করে? কখনো উজ্জ্বল হয়ে ওঠে একটি বিশেষ রং, আর দর্শকরা বলে ‘বাঃ!’ কখনো বা ঝলসে ওঠে অন্য কোনো রং, আর সেই দর্শকরাই অবাক হয়ে বলে ‘আরে, এরকম তো আগে দেখিনি!’ আসলে সবই তো সেই জীবন নামক প্রিজমের খেলা। একই জন, বিভিন্ন প্রকাশ। আরও গভীরে যদি কেউ ডুব দেয়, তবে হয়তো পৌঁছে যাবে সেই রং-এর ওপারের অপ্রকাশ জগতে, যেখানে একজন বর্ণময় মানুষ হয়ে ওঠে অবচেতনের আবছায়া। 
এই যে মানব চরিত্রের রং-এর খেলা, এটা দেখার এক টুকরো খোলা জানালা অনিরুদ্ধ বসুর এই উপন্যাসটি। অনিরুদ্ধ বরাবরই নতুন নতুন আঙ্গিক নিয়ে লেখে। লেখা নিয়ে নানারকম এক্সপেরিমেন্ট করে। এই উপন্যাসটি এক নতুন ধারায় লেখা। একই নারীকে নিয়ে সাতটি ছোটগল্প, আর তারপর সব মিলে মিশে একটি উপন্যাস – এ যেন সেই সাত রং-এর খেলা। ভিবজিওর মিলে মিশে সাদা। 
তারপর কেন্দ্রীয় চরিত্রটি (প্রথাগত নায়িকা বলতে আমার কুণ্ঠা হচ্ছে!) এক সময় খুঁজে পায় তার রঙিন বাইরের খোলসের অন্দরের গভীর বর্ণহীন অন্তর্সত্ত্বাকে। এ যেন ভিবজিওরের ওপারের অতি বেগুনি বা লাল উজানি আলোর খোঁজ পাওয়া।
জানি না, আর কেউ এ ভাবে মানবী চরিত্র বিশ্লেষণ করে উপন্যাস লিখেছেন কি না। তবে বাংলা ভাষায় আমরা যারা মেন স্ট্রিমের বাইরে দাঁড়িয়ে, নতুন কিছু বলার বা লেখার চেষ্টা করছি, তারা স্বতঃস্ফূর্ত সাধুবাদ জানাচ্ছি অনিরুদ্ধকে, তার এই অসাধারণ প্রচেষ্টার জন্য। 

আশা করি মননশীল পাঠকরাও একমত হবেন। 

ব্যতিক্রমী উপন্যাস লেখার দুটো দিক আছে। একদিকে যেমন বিদগ্ধ মহলে তা বিশেষ সমাদৃত হয়ে বেস্টসেলার হয়ে যায়, অন্যদিকে কিছু সমালোচকদের হাতে পড়ে অর্থহীন লেখার আখ্যা পায়। পত্র-সাহিত্যের চেনা গতে ফেলে ওরা খুঁজতে চায় চিরায়ত একটি ভ্রমণ কাহিনি ও গতানুগতিক বৈবাহিক সম্পর্কের বাইরে কোনো পরকীয়া প্রেমের বিন্যাস। যেটুকু থাকবে সরল চিন্তার মায়াজালে জড়িয়ে।

পত্র-সাহিত্য হিসেবে লেখা হলেও, ‘তোমাকে…’ যে তার পরিধি ছাড়িয়ে সময়ের অন্দরমহলে পৌঁছে গেছে এবং সময়ের লিনিয়ারিটি ভেদ করে তার চতুর্থ মাত্রা বা ফোর্থ ডাইমেনশন ‘উলম্ব সময়’, যা ‘ভারটিক্যাল টাইম’ তার হাত ধরে পৌঁছে গেছে তূরীয় লোকে। সাধারণ পাঠক এত কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকে যে, সেই কঠিন ধারণা আস্বাদন করতে ব্যর্থ হয়।

আসলে যে যেভাবে দেখে, কিংবা দেখতে চায়, বা দেখতে অভ্যস্ত, এই দৃষ্টিভঙ্গিটাই আসল। থমকে দাঁড়ানো সংকীর্ণ ভাবনার অচলায়তনে আজকের দিনে প্রাসঙ্গিক কোনো চিন্তাধারা মেলে ধরাই ছিল লেখাটির মুল উদ্দেশ্য।

প্রথম সংস্করণে সেই ভাবনার যথাযথ প্রকাশ ঘটেনি বলে বহু পাঠকের অভিযোগ ছিল। সেই বক্তব্যকে শ্রদ্ধা জানিয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি বিষয়টিকে সহজভাবে তুলে ধরার। এরপর পুরোটাই পাঠকের হাতে ছেড়ে দিলাম।

এই কাহিনিতে যৌথ সম্পর্কের জটিলতা প্রধান আলোচ্য বিষয়। যে চিরন্তন সম্পর্ক চেনা গতে মিশে গেছে কাল্পনিক সময়ে। যেখানে ‘সময়’ বাধাহীন, অনন্ত বলে আমাদের কাছে পরিচিত। মানুষের মনে সত্য-মিথ্যা, ঠিক-ভুল, সম্ভব-অসম্ভব, জানা-অজানা, বোঝা ও না-বোঝার চিরকালীন দ্বন্দ্বর প্রতিফলন।

ব্যবহারিক জীবনে নানা সমস্যা আমরা এতটাই নিজের মতো করে পেয়ে থাকি যে, তাদের সঠিক রূপ আমাদের কাছে বহু সময়ে ভীষণভাবে অস্পষ্ট হয়ে যায়। অত্যন্ত প্রয়োজনেও আমরা না-পারি জানতে, না-পারি তার থেকে বেরিয়ে আসতে। ঘুরপাক খেতে থাকি গতিহীন মননে সময়ের আবর্তে। এবং তখনই নিজেকে আবার তৈরি করতে হয়, মনকে গড়ে তুলতে হয় চিরন্তন মুক্তির আকাঙ্ক্ষায়। সেই মুক্তি যতই তাৎক্ষণিক হোক না কেন, আমাদের চাহিদার কাছে সেটুকু অত্যন্ত জরুরি।

দিনের শেষে বা বলা ভালো সারাদিন, প্রত্যেকের নিজের জন্য একটু স্পেস খুব দরকার। যেখানে এসে প্রতিটা ব্যক্তিত্ব নিজের সামনে দাঁড়ায়, নিজেকে ঝালিয়ে নেয় বা কার্যক্রম তলিয়ে দেখে। সেটুকুর জন্যই বোধহয় প্রতিটা মানুষের কিছুটা নীরবতাও প্রয়োজন। নৈঃশব্দ্য আমাদের অনেকটা ইন্ধন জোগায়।

সমতল থেকে পাহাড় হয়ে আবার সমতলে ফেরা। শেষ পর্যন্ত না পড়লে লেখাটির কেন্দ্রবিন্দুতে কতটা পৌঁছনো যাবে তা নিয়ে সন্দেহ থাকেই। সময়ের ব্যাপ্তিতে লেখাটির স্থান কোথায়, সময়-ই বলে দেবে। লেখক হিসেবে চেষ্টা করেছি গতিশীল বাংলা সাহিত্যকে, একটু এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। আজ পুনঃপ্রকাশনার প্রাক্কালে এক বন্ধুর একটি কবিতার লাইন মনে পড়ে গেল -

 

 গোলমরিচের গুঁড়ো৷‌ এবারে সেটাই প্রদোষচন্দ্র মিত্রর হাতের অস্ত্র৷‌ আসলে ফেলুদার প্রথম উপন্যাস ‘বাদশাহী আংটি’ সত্যজিৎ রায় গোয়েন্দা ফেলুদার মগজাস্ত্রেই শান দিয়েছিলেন৷‌ নবাবি লক্ষ্নৌতে এক মোগলাই আংটি নিয়ে রহস্যের শুরু আর ছমছমে গাড়োয়ালের জঙ্গলে ক্লাইম্যাক্স৷‌ সেখানে আবার ভিলেন বনবিহারীবাবু, তার সাকরেদ গণেশ এবং র‍্যাটল স্নেক৷‌


তোপসে ও তোপসের বাবার সাথে ফেলুদা লখনউয়ের বড়া ইমামবাড়ার নিকট বসবাসরত তাদের অ্যাডভোকেট আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে যায়। সেখানে তারা ডা. শ্রীবাস্তবের সাথে দেখা করেন, যার বাড়িতে সম্প্রতি ডাকাতির চেষ্টা করা হয়েছিল। তার বন্ধু পেয়ারেলাল কর্তৃক প্রদত্ত একটি অমূল্য আংটি চুরির উদ্দেশ্যেই চেষ্টাটি করা হয় বলে সকলে ধারণা করে। আংটিটি মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের। আবারও ডাকাতির ভয়ে তিনি এটাকে তার বন্ধুর বাসাতে রেখে যান। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এখানে থেকেও আংটিটি চুরি যায়। এরমধ্যেই ফেলুদা ডাক্তারের প্রতিবেশী বনবিহারীবাবুর সাথে দেখা করেন, যিনি নিজের বাড়িতে একটি ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা নির্মাণ করে সেখানে কুমির, আফ্রিকান বাঘ, হায়েনা, র‍্যাটলস্নেক, কাঁকড়াবিছে ও ব্ল্যাক উইডো মাকড়সা পোষেন। ফেলুদা পেয়ারেলালের ছেলে মহাবীরের সাথেও দেখা করেন। মহাবীর একজন চলচ্চিত্র পরিচালক এবং অনেকে মনে করেন তার বাবার মৃত্যুর পিছনে তারও হাত থাকতে পারে...


...এরপর কী হলো ? ফেলুদা কী পারলো বাদশাহী আংটি উদ্ধার করতে ? তা জানতে হলে এক নিশ্বাসে পড়ে নিতে হবে 'বাদশাহী আংটি' ।


©2019 GoogleSite Terms of ServicePrivacyDevelopersArtistsAbout Google|Location: United StatesLanguage: English (United States)
By purchasing this item, you are transacting with Google Payments and agreeing to the Google Payments Terms of Service and Privacy Notice.