আমার আগের বইটি যে পাঠকদের অকুণ্ঠ সমাদর পেয়েছে, তার কারন সম্ভবতঃ দু’টি – এক, আজকাল বহু মানুষই হিমালয়ের নানা জায়গায় ট্রেকিংয়ে যাচ্ছেন বলে জনসাধারণের মনে ট্রেকিং নিয়ে একটি আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে এবং দুই, আমার বইটির প্রকৃতি ও মান, যা একজন পাঠকের ভাষায় “… ভ্রমণ, অ্যাডভেঞ্চার, ইতিহাস, ভুগোল ও দর্শনের অসাধারণ মেলবন্ধন”।
এই দুটি কারন ছাড়াও আমার নিজের মতে তৃতীয় একটি কারন আছে। বাংলা ভাষায় পর্বতারোহণ নিয়ে অনেক ভালো ভালো বই থাকলেও সাধারণ মানুষেরা পর্বতারোহণকে ঠিক কাছের জিনিষ মনে করেন না, অর্থাৎ পর্বতারোহীদের সাথে নিজেদের একাত্মবোধ বা আইডেন্টিফাই করতে পারেন না। কিন্তু ট্রেকিং ব্যাপারটা অপেক্ষাকৃত সহজসাধ্য বলে ট্রেকারদের সাথে নিজেদের একাত্মবোধটা সহজেই হয়ে যায়। অতীতে কয়েকটি ট্রেকিং (কেদার-বদ্রী, গোমুখ বা পঞ্চকেদার ইত্যাদি) নিয়ে লেখা বইয়ের সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পিছনে এই কারনটাই প্রধান।
যাই হোক, হর-কি-দুন ট্রেকিংয়ে অ্যাডভেঞ্চার ছাড়াও আর একটি আকর্ষণ হল পাণ্ডবদের স্বর্গারোহণের কাহিনীর সঙ্গে এই পথের যোগ এবং দুর্যোধনের মন্দিরের উপস্থিতি, যা বর্তমান বইটিকে পাঠকদের কাছে আকর্ষণীয় হতে সাহায্য করবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস।
প্রথম বইটির মত এই বইটিতেও ভ্রমণ, অ্যাডভেঞ্চার, ইতিহাস, ভুগোল, বিজ্ঞান ও দর্শনের মেলবন্ধনের চেষ্টা করেছি। এই কাজে কতটা সফল হয়েছি তার বিচার পাঠকরাই করবেন।
এই ট্রেকিংয়ে যাঁরা আমার সঙ্গে ছিলেন এবং যাঁরা পিছনে থেকে উৎসাহ দিয়েছেন, সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
দুর্গাপুর আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায়
আগস্ট ২০১৯
আশিস কুমার চট্টোপাধ্যায় পেশায় স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, আর নেশায় অনেক কিছুই। ফটো তুলিয়ে, লেখক, কবি, ছড়াকার, জনপ্রিয় ব্লগারএবং দেশবিদেশ ঘুরে বেড়ানো একজন পাক্কা ভবঘুরে। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মেন হসপিটালে প্রায় ৩২ বছর অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করার ফাঁকেই সময় করে ক্যামেরা হাতে ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের আনাচে কানাচে। তারই ফলশ্রুতি হিসেবে লিখে ফেলেছেন পশ্চিমবঙ্গের মন্দিরের উপর একটি বিশাল ফটোগ্রাফিক বই “An Introduction to Bengal temples through the Lens”, যা ই-বুক হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। ভারতবর্ষের বিভিন্ন স্বল্পচেনা তীর্থস্থানের উপর লেখা শতাধিক সচিত্র ব্লগ ওঁকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি দিয়েছে। তথ্য-সমৃদ্ধ ব্লগগুলি এক লক্ষ বারেরও বেশীবার ভিউ হয়েছে। মনের খেয়ালে লেখা দুটি উপন্যাসের (চরৈবেতি ও অলীক) মধ্যে প্রথমটি দু-দুবার আনন্দবাজার পত্রিকার বেস্টসেলার লিস্টে স্থান পেয়েছে। এছাড়াও এই বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ব্যতিক্রমী চিকিৎসকের কলম থেকে প্রকাশিত হয়েছে যথাক্রমে একটি ছোটগল্পের সংগ্রহ (খোঁজ ও অন্যান্য গল্প), একটি কবিতার বই (একা কুয়াশায়)এবং একটি ছড়ার বই (একলা পাখি ও অন্যান্য ছড়া)।
লেখক চারটি কুম্ভে (হরিদ্বার 2010, প্রয়াগ 2013, নাসিক 2015 ও উজ্জ্বয়িনী 2016) গিয়ে এবং প্রতিটি কুম্ভেই মুখ্য শাহী স্নানের দিন কুম্ভস্নান করে যে অসাধারণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন, সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে "পূর্ণযাত্রা" নামে একটি বই লেখেন যে বইটিও পাঠকদের কাছে সদৃত হয়েছে।
লেখকের গোমুখ-তপোবন ট্রেকিং নিয়ে লেখা “তপোভূমি তপোবনে” বইটি ভ্রমণ, অ্যাডভেঞ্চার, ইতিহাস, ভুগোল, বিজ্ঞান ও দর্শনের অসাধারণ মেলবন্ধনের কারনে পাঠকদের অকুণ্ঠ প্রশংসা পেয়েছে। বলা যায় বাংলা ভাষায় হিমালয়ের ট্রেকিং নিয়ে লেখায় এক নতুন ধারার সূচনা করেছে বইটি। বর্তমান বইটি সেই ধারারই উত্তরসূরী।