রচনার অন্তর্গত স্থানিক ও কালিক নির্দিষ্টতা সত্ত্বেও বইটি পিছুসময়ের গোটা বাংলাদেশের শীতগ্রীষ্মজলবায়ু, উদ্বেগ ও বিহ্বলতা, ভাঙন ও উত্থান, ভোর-দুপুর-অপরাহ্ন চলচ্চিত্রিত করেছে ব্যঞ্জনাবাহিত বর্ণনাকৌশলে।
এই দৃশ্যমর্মরিত রচনাটি বিবৃত হয়েছে। পৃথিবীর-পাঠশালায়-পা-রাখা এক বালিকার বরাত দিয়ে, যে নেত্র প্রসারিয়া গ্রাসিছে তার চারপাশ, সক্রিয় হচ্ছে যে ক্রমশ জগতের সঙ্গে, যে তার রক্তসূত্রের জ্ঞাতিদের মায়াবাঁধনে থেকেও খোঁজ নিতে শিখছে আরো বড় ভুবনপারাবারের।
মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের অন্তঃপুরের ইতিহাস, কতিপয় আপনজনের সংবেদনা ও আনন্দ, অনাড়ম্বর অথচ অন্তরঙ্গ ভঙ্গিতে গেঁথে রেখে এই স্মৃতিকাহিনী নির্মিত। সরল, সহজিয়া, মায়াবাতাসের মতো মর্মস্পর্শা আত্মজৈবনিক হয়েও উপন্যাসোপম।
পাপড়ি রহমান
নব্বই দশকের অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য একজন কথাশিল্পী। এ পর্যন্ত গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় পঁচিশটি। কথাসাহিত্যে কাজের পাশাপাশি তাঁর রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদনাও। তিনি ‘ধূলিচিত্র’ নামক একটি লিটলম্যাগ সম্পাদনা করতে শুরু করেছিলেন ২০০০ সালের দিকে। বাংলা একাডেমী থেকে তাঁর সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের ছোটগল্প: নব্বইয়ের দশক’ প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে এবং গবেষণাগ্রন্থ ‘ ভাষা শহিদ আবুল বরকত’ প্রকাশিত হয় ২০১০ সালে। তাঁর অফবিটের উপন্যাসগুলি প্রকাশ পাওয়া মাত্রই বোদ্ধা-পাঠকের নজর কাড়তে সক্ষম হয়। তন্মধ্যে ‘পোড়ানদীর স্বপ্নপুরাণ’ প্রকাশিত হয় ২০০৪ সালে। জামদানি তাঁতিদের আদ্যোপান্ত নিয়ে উপন্যাস ‘বয়ন’ ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয় । পালাকারদের জীবন ভিত্তিক উপন্যাস ‘পালাটিয়া’ প্রকাশিত হয় ২০১১ সালে। এই তিনটি উপন্যাসই প্রকাশিত হয় ‘মাওলা ব্রাদার্স’ থেকে। দীর্ঘ আট বছর বিরতির পর বেঙ্গল পাবলিকেশন্স থেকে প্রকাশিত হয় ‘নদীধারা আবাসিক এলাকা’ (২০১৯)।
২০২০ সালে উপন্যাস ‘পালাটিয়া’ রি-প্রিন্ট হয় কলকাতার বনেদী প্রকাশনা সংস্থা ‘অভিযান’ থেকে।
তিনি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সম্মাননা পেয়েছেন ২০১০ সালে। কলকাতার ‘ঐহিক মৈত্রী সম্মাননা’ পেয়েছেন ২০১৭ সালে। ২০২০ সালে পেয়েছেন বাংলা একাডেমী পরিচালিত ‘সাদ’ত আলী আখন্দ সাহিত্য পুরস্কার’।